বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তরতর করে বাড়ছে। দুই দিন আগেই স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কমে গেছে ডলারের মান। বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার নিরিখে ডলারের মান এখন চার বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সমান নির্ণয়কারী সূচক ৯৫ দশমিক ৫৬৬-এ নেমে এসেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর যা সর্বনি¤œ। শীর্ষ ছয়টি মুদ্রা যেগুলোর বিপরীতে ডলার দুর্বল হয়েছে সেগুলো হলো, ইউরো, জাপানি ইয়েন, ব্রিটিশ পাউন্ড, কানাডিয়ান ডলার, সুইডিশ ক্রেনার এবং সুইস ফ্রাঁ।
বিশ্বের সিংহভাগ বাণিজ্যই হয় মার্কিন মুদ্রা ডলারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে সেই ডলারের মান কমছে। রয়টর্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এর পেছনে অবশ্য কৌশলগত কারণ আছে, বিভিন্ন কারণেই ডলারের মান কমছে। সংবাদে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহার আরো কমাতে পারে এমন প্রত্যাশা, শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা, নীতিনির্ধারণে অস্থিরতা-এসব নানা কারণেই ডলারের মান কমছে।
পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজস্বঘাটতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হচ্ছে।
ডলারের দর কমলে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের সুবিধা হয়। কেননা এতে মার্কিন পণ্য বিদেশি বাজারে তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ডলারের মূল্য আরও কমে যাক-এমনটা তিনি চান না। তার চাওয়া, ডলার নিজের জায়গাতেই থাক।
এদিকে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা হলেও দেশের বাজারে ডলার স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে ডলারের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ৯ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে এ মুদ্রার। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের মান স্থিতিশীল রয়েছে। দেশের বাজারে ডলারের দাম অনেক দিন ধরেই ১২২ টাকায় স্থিতিশীল। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে এ মুদ্রার দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।


