ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকটি থেকে অনেক গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন, গ্রাহকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের আস্থাহীনতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আমানত বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যাংকটিতে নতুন করে সংকট দেখা দেবে। ব্যাংকটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের পর থেকে আমানত উত্তোলনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবারও সড়কে নেমেছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা। একই দাবীতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে দুই ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার সকালে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করতে হবে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করা উচিত হবে না।
তিনি আরো দাবি করেন, খুরশীদ আলম অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে থাকাকালে পদত্যাগ করে চলে যান। এমন একজন ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব শাখা ও উপশাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



