আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ আজ বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিবসটি উপলক্ষে এক বানীতে বলেছেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
বানীতে তিনি আরও বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে আমি বিশ্বের সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রতি বছর ২৯ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালন হয়। এবার ঈদের ছুটির মধ্যে দিবসটি পড়ে যাওয়ায় ১০ জুন বাংলাদেশে পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বানীতে বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের অবদান স্মরণ করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাদের দায়িত্বশীল ভ‚মিকা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছেন। দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আসুন, আমরা সবাই শান্তি, মানবতা ও স¤প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করি।
পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের গর্বিত অংশীদার। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী পুলিশসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন শান্তিরক্ষী ২৫টি দেশে ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদান রেখেছেন। হাইতিতে দ্রæততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ৫২৫ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত হবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৮ জন নারীসহ ৩৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ইউএনপোল ও ইউএন জবে নিয়োজিত রয়েছেন। পুলিশের নারী সদস্যগণ ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে গঠিত মিশনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে যাত্রা শুরু। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯টি মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশও নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহিমায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রসংশোনীয় ভ‚মিকা পালন করে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখ ৬ হাজার শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সামরিক সদস্য ও নারী পুলিশের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা।



