দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার খিলগাঁও থানা পুলিশ ছয়দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, সুজন নামে খিলগাঁওয়ের এক বাসিন্দা চাঁদাবাজির অভিযোগে রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করলে আইন-শৃঙ্খরা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, রাজধানীতে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে রবিবার রিপনকে তুলে নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই রিপন এলাকায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তিনি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডি) সিদ্দিকুর রহমানের ঘণিষ্ট সহচর।
স্থানীয়রা জানান, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে মানুষের জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে রিপনকে ব্যবহার করেন সিদ্দিকুর রহমান। এজন্য রিপনকে কোম্পানির কর্মকর্তা বানিয়ে প্রধান কার্যালয়ে বসানো হয়।
একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায়ও সিদ্দিকুর রহমান ও রিপনের যোগসূত্র থাকতে পারে। রিমান্ডে থাকা রিপনকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
‘কাইল্যা পলাশ’কে গুলির ঘটনায় আরেকজন গ্রেপ্তার
এদিকে, কাইল্যা পলাশকে গুলি করার ঘটনায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস (৩৭) নামে আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রবিবার হাতিরঝিলের উত্তর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ এর একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া মারুফ সুলতান মৌলভীবাজারের রূপসপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে।
গতকাল র্যাব জানায়, হাতিরঝিলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশের সঙ্গে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই শত্রুতার জেরে মারুফ ও তার দলের সদস্যরা পলাশকে হত্যার সুযোগ খুঁজছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। দুপুর পৌনে ২টায় তিনি পশ্চিম রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে লাবিবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে পৌঁছালে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে পলাশের মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত পলাশের ছেলে ইউসুফ খান পলক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামপুরার ডেল্টা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার রাত ১২টায় লাইফ সার্পোট এ্যাম্বোলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।
এই হামলার ঘটনায় শনিবার হাতিরঝিল থানায় ভিকটিমের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় তেইশ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম জিসান (৫০)।
নাম উল্লেখ করা অন্যান্য আসামিরা হলেন- বাদশা ও গুজা বাদশা (৪৮), গলদা বাদশা (৪৫), শান্ত ও পিচ্চি শান্ত (২৮), সোলাইমান খন্দকার (৪৫), ফারুক চাচা ফারুক (৩৫), হেবেল (৩৫), মোল্লা জনি (৪২), ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা (৪৫), পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন ও সজীব (৩৫)।



