রাজধানীর পশুর হাটে বেচাকেনা

রাজধানীতে পাঁচদিনব্যাপী পশুর হাটে ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা ততই বাড়ছে। তবে বাসা বাড়িতে গরু রাখার ব্যবস্থা না থাকা ও দাম পছন্দমত না হওয়ায় অনেকে শেষ দিকে কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। বুধবার পর্যন্ত পশু কেনা বেচা হবে।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীতে শেষে দিকেই বেশি বেচা কেনা হয়। আমরা শেষ দিকে ভালো বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি যে পশু নিয়ে আসছি তা বিক্রি করে ফিরতে পারবো। ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে দাম বেশি হওয়ায় এখনো না কিনে দামাদামি করেই বাড়ি ফিরছেন। আবার কেউ কেউ গরু কিনেই ফিরছেন।

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাট ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বিশাল আকৃতির গরু ঘিরে মানুষের কৌতূহল, কোথাও আবার ছোট ও মাঝারি গরু নিয়ে চলছে দরদাম। কোথাও খামারিরা গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কোথাও আবার খাবার খাওয়াচ্ছেন। অনেক বিক্রেতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুর নাম, ওজন ও খামারের গল্প শোনাচ্ছেন।

হাটের এক পাশে বিশাল কালো রঙের একটি গরুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। গরুটির মালিক বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন।

তিনি জানান, গরুটির নাম রেখেছেন ‘কালা মানিক’। প্রায় ৪৫ মণ ওজনের এই বিশাল দেহের অধিকারী গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২২ লাখ টাকা।

সোহাগ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নিজ খামারে গরুটি লালন-পালন করেছেন। নিয়মিত উন্নত খাবার ও পরিচর্যার কারণে গরুটি এত বড় হয়েছে। হাটে আনার পর থেকেই অনেকে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। এখনো চূড়ান্ত দর না পেলেও ভালো দামেই বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

একই হাটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল জলিল ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এই ব্যবসায়ী জানান, তিনি ও তার এক সহযোগী মিলে গরুগুলো খামারে পালন করেছেন। কয়েকদিন ধরে হাটে থাকলেও এখনো বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়নি। তবে বিকেল গড়ালেই বাজার জমে উঠবে।

জলিল বলেন, এখন মানুষ মূলত ঘুরে ঘুরে গরু দেখছে। অনেকে দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। সন্ধ্যার পর থেকে এবং আগামী দু-এক দিনে আসল ক্রেতারা আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।

হাটের আরেক প্রান্তে বিশাল সাদা-কালো রঙের একটি গরু নিয়ে বসেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ব্যবসায়ী রুবেল শেখ। তিনি জানান, তার গরুটির ওজন ১২০০ কেজির বেশি, অর্থাৎ ৩০ মণ। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।

রুবেল শেখ আরও জানান, বড় গরুর ক্রেতা তুলনামূলক কম হলেও যারা কিনতে আসেন তারা আলাদা আগ্রহ নিয়ে দেখেন। অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসেন। তবে শেষ সময়ে বড় গরুর ভালো দাম ওঠে বলেই তিনি আশা করছেন।

রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে আসা ছোট খামারি নুর ইসলাম হাটে এনেছেন ২৬টি গরু। এর মধ্যে ছয়টি বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, বাড়ির ছোট খামার থেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করছেন। টিনের ঘর আর সীমিত জায়গার মধ্যেই কষ্ট করে গরুগুলো বড় করেছেন।

নুর ইসলাম বলেন, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা এবার বেশি। কারণ সাধারণ মানুষ এখন বাজেটের মধ্যে কোরবানির পশু খুঁজছেন। তিনি আশা করছেন, বাকি গরুগুলোও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে।

শুধু ব্যবসায়ী নন, হাটে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও। রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে গরু দেখতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম।

তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্তভাবে গরু কেনেননি। বিভিন্ন হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন। এবার বড় গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর মধ্যে কিছুটা সহনীয় দাম দেখা যাচ্ছে। হাটে গরু দেখতে আসা আরেক ক্রেতা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, দিয়াবাড়ির হাটে গরুর বৈচিত্র বেশি।

ছোট, মাঝারি থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির গরুও আছে। পরিবার নিয়ে এসে কয়েকটি গরু পছন্দ করেছেন। এখন দরদাম মিললে কিনবেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments