ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, ‘ভিআইপি’ নারীসহ ৩ জনের সাজা

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও সিগন্যালে ট্রাফিক আইন অমান্য করা গাড়ির ভিডিও ধারণ করায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, আফিয়া কনক (৪৫), শামসুজ্জামান (৫১) ও রাজু আহম্মেদ (২৯)। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে হাতিরঝিল থানাধীন হোটেল সোনারগাঁওয়ের বহির্গমন (ভেতরের) গেট দিয়ে দুটি গাড়ি মূল সড়কে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় সোনারগাঁও সিগন্যালের উত্তর পাশের যানবাহন চলাচলের সিগন্যাল চালু থাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. শামীম মিয়া গাড়ি দুটিকে পেছনে যেতে বলেন। কিন্তু গাড়িগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে জোরপূর্বক সামনে এগোতে থাকে।

এ সময় গাড়ি থেকে ৪-৫ জন ব্যক্তি নেমে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে জানান, গাড়িতে ভিআইপি রয়েছেন, তাই গাড়ি পেছানো যাবে না। এ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক কনস্টেবল শামীম মিয়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গাড়িটির নম্বরপ্লেটের ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করে। তখন গাড়ি থেকে ভিআইপি পরিচয় দেওয়া নারী আফিয়া কনক নেমে এসে পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং রাস্তায় ছুড়ে মেরে সেটি ভেঙে ফেলেন।

একইসঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়। ঘটনার পরপরই গাড়িটি আটক করা সম্ভব না হলেও, ঘটনাস্থল থেকে অতিথি গ্রুপের দুই নিরাপত্তাকর্মী রাজু আহমেদ ও শামসুজ্জামানকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

পরবর্তীতে ঘটনার মূল হোতা আফিয়া কনকসহ তিন আসামিকে তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত সড়ক পরিবহন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আফিয়া কনককে ১০ হাজার টাকা এবং রাজু আহমেদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত শামসুজ্জামানকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments