৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

দেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেয়ার ২ ঘন্টা পর প্রজ্ঞাপন বাতিল করে।

শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে সরিয়ে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন উপাচার্য হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নবনিযুক্ত অধ্যাপক মামুন অর রশিদ একসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তৎকালীন উপাচার্য শুচিতা শরমিনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোয় অল্প দিনের মধ্যে তাঁকে অপসারণ করা হয়। গত বছরের ১৩ মে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন উপাচার্য শুচিতা শরমিন, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মামুন অর রশিদকে অব্যাহতি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্র্বতী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চার বছরের পূর্ণকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু পদোন্নতি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকেরা। গত সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ‘কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি’ ঘোষণা দেন তাঁরা। একই সঙ্গে উপাচার্য তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অপসারণের দাবি করেন। এতে চার দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

উপাচার্যদের নিয়োগে শর্তে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত যেটি আগে ঘটবে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই আমলে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ শীর্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আন্দোলন ও তোপের মুখে একের পর এক পদত্যাগ করেন। মেয়াদ শেষ এবং কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্তর্র্বতী সরকার ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য শর্তসাপেক্ষে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।

বর্তমানে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। আবার জামায়াত কিংবা অন্য আদর্শের উপাচার্যদের রাখতে চাইছে না সরকার।

এর বাইরে শীর্ষ এই পদে থেকে যারা ভালো করতে পারেননি, তাদের পরিবর্তনের চিন্তা রয়েছে। পরিবর্তনের এই তালিকায় রয়েছেন অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

বর্তমান বিএনপি সরকারও ক্ষমতায় এসে প্রথম ধাপে গত মার্চে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।

এরপর আলাদাভাবে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার বছরের জন্য একজন শিক্ষককে শর্তসাপেক্ষে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে একটি শর্ত থাকে রাষ্ট্রপতি (আচার্য) প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments