উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট গৃহীত হলেই নির্বাচনের অযোগ্য

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন কিংবা ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট গৃহীত হলেই তিনি জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আগে থেকে কেউ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকলেও পদে বহাল থাকার অযোগ্য হবেন তিনি। এছাড়া, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতেও বহাল থাকতে পারবেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট সংক্রান্ত অধ্যাদেশে নতুন এই বিধান যুক্ত করে আনা সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া অধ্যাদেশটি হলো ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫’। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ জানাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এ নতুন সেকশন ২০ (সি) যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত আইনের সেকশন ৯(১) এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।
প্রেস সচিব জানান, একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। এমনকি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া বা অন্য কোনো পাবলিক অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ারও অযোগ্য হবেন, চাকরি বা নিয়োগের জন্য তারা আবেদনও করতে পারবেন না।
টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুমোদন; কমবে মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য
উপদেষ্টা পরিষদের গতকালের বৈঠকে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়েছে। এনিয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নতুন এ নীতিমালার ফলে বিদ্যমান লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় থাকা মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের পরিবর্তে নতুন একটি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা; দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতামূলক টেলিযোগাযোগ ব্যবসা সম্প্রসারণ করে ভয়েসস কল এবং ডেটা অর্থাৎ ইন্টারনেট এবং ডেটাকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসার একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সূচিত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র
থেকে শুধু ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ কিনতে পারবে পিডিবি
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন/বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ কিনতে পারবে এবং বাকি বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যাবে। এতে করে সৌরবিদ্যুতে বেশ বড় আকারে বিনিয়োগ হবে আর তাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপরও নির্ভরতা কমবে।
তিনি বলেন, এই নীতিমালাকে বলা হয়েছে একটা যুগান্তকারী নীতি। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ নীতিমালা ছিল, সেটাকে বিগত সরকার শুধু লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই প্রাইভেট সেক্টর পিপিপি পলিসির কারণে ২০১০ সালে যে বিশেষ ক্ষমতা আইন তৈরি করা হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে, তার কারণে গতবছর ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। সেই জায়গা থেকে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে এবং মানুষের জন্য বিদ্যুৎ খাতে খরচ কমাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, এই নীতিমালার ফলে এখন যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন যেমন বিপিডিবি আগে পুরোটাই কিনে ফেলতো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। এখন ২০ শতাংশ কিনতে পারবে। বাকিটা পছন্দের ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবে কোম্পানি। বিক্রির জন্য সরকারের যে সঞ্চালন লাইন আছে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে, তার জন্য তাদের একটি চার্জ দিতে হবে। এই চার্জ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে আমরা আশা করছি, সৌরবিদ্যুতে বেশ বড় আকারে বিনিয়োগ হবে। এমন একটা ঘটনা পাকিস্তানে ঘটেছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতে এত বিনিয়োগ হয়েছে যে সরকারি লাইন থেকে বিদ্যুৎ কিনছে না বরং বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে কিংবা নিজেরাই সোলার প্ল্যান্ট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে খরচ, এই পলিসির কারণে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া এলএনজি নির্ভরতাও কমে আসবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments