রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গণপিটুনিতে দুই তরুন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি তারা ‘ছিনতাইকারী’ ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুজন। গতকাল বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে মোহাম্মদপুরে নবীনগর সাঁকোর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চরটিট্রা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও শাহানাজ বেগমের ছেলে সুজন (১৯) এবং লালমোহন উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর ও রানু বিবির ছেলে শরীফ (২০)। তারা মোহাম্মদপুর থানার বছিলা ৩ নম্বর রোড এলাকায় থাকতেন। আহত শরিফ (২২) ও ফয়সাল (২৩) বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ রফিক আহমেদ ।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে নবীনগর ও বসিলা ৪০ ফিট এলাকার খালের সাঁকোর কাছে কয়েক জন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই করে। পরে ভোর ৪টার দিকে আবারও ছিনতাই করতে আসলে এলাকাবাসী চার জনকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
তারা আরও জানান, নিহত সুজন ওরফে বাবলু এবং আহত ফয়সাল ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য জনি ওরফে ‘রক্তচোষা জনি’র ঘনিষ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় তারা প্রকাশ্যে ছিনতাই করে আসছিল। বহুবার গ্রেফতার হলেও অল্পদিনের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ে।
ওসি কাজী রফিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হানিফ ও সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। শরীফ ও জুয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত ও আহত চার জনই এলাকায় সক্রিয় ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (৮সেপ্টেম্বর) বিকালে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় ইয়ামিন নামের আরও এক ছিনতাইকারী গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হন। এ সময় তার সাথে থাকা ফাহিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।



