পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চালুর ২০ বছর পর এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কালো পোশাকের র্যাবকে আর দেখা যাবে না। পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটকে ডাকাও হবে নতুন নামে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, র্যাব পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি র্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সুপারিশ করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, খুব শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে এ বাহিনী ‘নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে’ কাজ শুরু করবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে দুই দশক আগে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ সন্ত্রাস দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবে র্যাব গঠন করা হয়। এই ‘এলিট ফোর্সে’ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ অন্য বাহিনীগুলোর সদস্যদেরও।
র্যাবের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ি, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ইউনিটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পালন শুরু হয় ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ওই বছরের ২১ জুন থেকে র্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের জন্য সমালোচিত হতে থাকে র্যাব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্তির পথে না গিয়ে এই বাহিনীর নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল। অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনও করেছে।


