ফারাক্কা লংমার্চের ৫০তম বর্ষপূর্তিতে রাজশাহীর পদ্মারপাড়ে গণজমায়েত

ফারাক্কা লংমার্চের ৫০তম বর্ষপূর্তি দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহীর বড়কুঠির পদ্মারপাড়ে আয়োজিত গণজমায়েতে বক্তারা পদ্মার পানির ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও বিশ্ব ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে চীন, নেপাল, ভুটান, ভারত এবং বাংলাদেশকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নদী কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও বলেছেন, এই আঞ্চলিক কমিশন এই অঞ্চলের নদী অববাহিকাগুলোতে পানির সুষম বণ্টন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী অববাহিকার জনগণের বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের আর্থিক উন্নতি, জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন এবং অবহেলিত নারী ও শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদযাপন কমিটি রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মার পাড়ে এই গণজমায়েতের আয়োজন করে। নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া রাজশাহী-৫ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা, ড্যাবের রাজশাহী জেলার সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন, নদীগবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, ভাসানী পরিষদের সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী ও রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ সুমন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ইউনেস্কোর বিশ্ব-ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু নদীর পানি প্রবাহের স্বল্পতায় অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

পদ্মা (গঙ্গা) নদীতে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা নদীতে বাঁধ এবং অন্যান্য নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশে যে ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। তবে এই সমস্যা দ্বিপাক্ষিকভাবেও সমাধান করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য হিস্যার স্বার্থে নদী বিষয়ে ভারত, বাংলাদেশ, চীন, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক ফোরাম গঠন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, নেপালে জলাধার নির্মাণ করে হিমালয়ের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে শুকনো মৌসুমে ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ১ লাখ ৩০ হাজার কিউসেক থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার কিউসেক পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাতে সবাই লাভবান হবে।

জলাধারের সাহায্যে নেপাল প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে, যা নেপাল বাংলাদেশেও রপ্তানি করতে পারবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments