নোয়াখালীর প্রধান বানিজিক কেন্দ্র বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারের ছোট মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ির ফেরার জন্য রাস্তার পার হওয়ার সময় ট্রাক চাপায় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা বেলাল হোছাইন ফতেহপুরী (৫৫) নিহত হন। এসময় তার মেয়ে তালবিয়া মুসতারি (৫) আহত হয়।
তাকে জেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে চৌমুহনীর হলি কেয়ার হসপিটালের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা বেলাল হোছাইন ফতেহপুরী জেলার সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম।
দূর্ঘটনার সময় মাওলানা বেলাল হোছাইনের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী তামান্না রহমান (৪০) ও আরেক মেয়ে তাসপিয়া সুলতানা (১২)। তারা দুইজনই অক্ষত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান।
পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে সেনবাগ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের বাড়ি থেকে অসুস্থ দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারের ‘হলি কেয়ার হসপিটালে’ যান বেলাল হোছাইন ফতেহপুরী।
বেলা ১২টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানদের ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হন। তিনি মেয়ে তালবিয়াকে হাতে নিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন । পেছনে স্ত্রী তার আরেক মেয়ে নিয়ে সড়কের দিকে আসছিলেন । এ মসময় ফেনী থেকে চৌমুহনী অভিমুখী দ্রুতগতির একটি ট্রাক বেলাল হোছাইন ও তার মেয়েকে চাপা দিলে বাবা-ময়ে ছিটকে পড়ে সড়কে।
ঘটনাস্থলেই মারা যান মাওলানা বেলাল হোছাইন এবং মেয়ে তালবিয়া গুরুতর আহত হয়। আহত তালবিয়াকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর পরই ঘাতক ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে। খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই মো. সবুজ মিয়া জানান, হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন বাবা ও মেয়ে। এরই মধ্যে একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা বেলাল হোছাইন মারা যান। আর মেয়ে তালবিয়া গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত কিংবা আহত কাউকে পাওয়া যায়নি।
পরে পুলিশ নিহত বেলাল হোছাইনের ফতেহপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



