১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা

রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত গতি না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এনবিআরের আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে ১.০৪ লাখ কোটি টাকা। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে প্রবৃদ্ধিও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম উদাহরণ। অর্থবছরের বাকি দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকার নিচে নামানো কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের বছরগুলোতে মাসভিত্তিক গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৪ শতাংশ ছিল। অর্থবছরের শুরুতে আদায়ের গতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও শেষদিকে এসে তা কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে এই বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌওফিকুল ইসলাম বলেন, গত সরকারের সময়ে বাস্তবতার তুলনায় বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি অর্থনীতিতে ধীরগতির কারণে রাজস্ব আদায়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, সরকারের রাজস্বের বড় অংশই আসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থবছরের শেষ দিকে কিছু প্রশাসনিক উদ্যোগের কারণে রাজস্ব আদায়ে সামান্য গতি ফিরতে পারে। তবে তাতেও বড় ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তার মতে, বছর শেষে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি থেকেই যেতে পারে।

এনবিআর জানান, এপ্রিল মাসে আমদানি শুল্ক ও আয়কর আদায়ে যথাক্রমে ১৮ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে একই সময়ে ভ্যাট আদায় আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভ্যাট আদায়ের বড় অংশ আসে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। কিন্তু এসব খাতে ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমে যাওয়ায় উৎসে ভ্যাট আদায়ও কমেছে।

এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত হারে ভ্যাট পাওয়া যাচ্ছে না। এডিপি বাস্তবায়ন কমে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ।
সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments