স্যান ম্যারিনোকে হারিয়ে ইউরোপের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয়

ইউরোপীয়ান কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রাতে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে সান মারিনোকে। ক্ষুদ্র একটি দেশ সান মারিনো। যাদের ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ২১১টি দেশের মধ্যে ২১১। সেই দেশটিকে কাল হারিয়েছে র‍্যাংকিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ।

২০০১ সালে ভারতের মিলেনিয়াম কাপ ফুটবলে ইউরোপীয়ান দল যুগোস্লাভিয়া এবং বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলেছিল কিন্তু জয় পায়নি। ইউরোপে আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ইউরোপের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতে কালই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হয়।

সান মারিনোর বিপক্ষে জয়ের নায়ক তপু বর্মণ। এই ডিফেন্ডারের গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল। সান মারিনো গোল শোধ করে খেলায় ফিরে ছিল। খেলার শেষ দিকে গিয়ে আবার সেই তপু বর্মণের হেডে বাংলাদেশ জয় পায়।

বাংলাদেশের ফুটবল আর সান মারিনোর ফুটবলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। তারা অপেশাদার ফুটবলার হলেও বাংলাদেশের পেশাদারফুটবলারদের সঙ্গে লড়াই করেছে। সান মারিনোর ফুটবলারদের খেলায় সৌন্দর্য ছিল।

সান মারিনোর স্টেডিয়ামে হাজার খানেক বাংলাদেশি গিয়ে ছিলেন খেলা দেখতে। তারা ইউরোপে বসবাসকারি, প্রবাসী বাংলাদেশি। ইতালির রোম শহর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সান মারিনো দেশ। সহজেই যাওয়া যায় সেখানে। বাংলাদেশিরা দল বেধে জার্সি গায়ে মাঠে হাজির হন। সান মারিনো স্টেডিয়ামের একতলা গ্যালারি। তার পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের দখলে।

কখনো বাংলাদেশ বাংলাদেশ, কখনো হামজা হামজা বলে চিৎকার করেছেন দর্শক। অনেকেরই ধারণা ছিল সান মারিনোর বিপক্ষে জিততে পারবে না বাংলাদেশ। কারণ সান মারিনো ইউরোপীন দলের বিপক্ষে খেলে শক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই ধার কাল বাংলাদেশের ম্যাচে পাওয়া যায়নি। তারপরও সান মারিনোর খেলা ছিল উপভোগ্য।

ফিফার স্বীকৃতি পাওয়ার পর সান মারিনো প্রথমবার কোনো এশিয়ান দেশের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল। স্থানীয় সময় বিকালে খেলা শুরু হয়। অধিনায়ক জামাল ভুইয়া গতকাল একাদশে খেলেছেন।

নতুন কোচ থামস ভুলি তাকে একাদশে নিয়েছে। সান মারিনোর আক্রমনের ঝাঁজ কাটিয়ে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল পায় বাংলাদেশ। রক্ষণ ছেড়ে উপরে উঠে যাওয়া ডিফেন্ডার তপু বর্মণ শেখ মোরসালিনের ক্রসের বলে হেড করে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন, ১-০। মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে গোল হজম করে বাংলাদেশ।

স্ট্রাইকার বেরাদি ডজ দিয়ে তপু বর্মণকে মাটিতে ফেলে দিয়ে গড়ানো ক্রসের বল জিকোপাতি সহজেই গোল করেন ১-১। সাদ উদ্দিনের বেখেয়ালিপনায় গোল হজম করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক ফুটবলার পরিবর্তন করেন কোচ থামস ভুলি। জুনিয়র সোহেল রানা, জায়ান আহমেদ, সামিত সোম, ফাহিম কাজেম শাহ মাঠে নামেন। হামজার সেটপিসের শট, বিশ্বনাথ চেষ্টা করেও পারেননি। তপু দৌড়ে হেড করলে বল চলে যায় সান মারিনোর জালে ২-১। এমন ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য দারুন খবর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments