ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ  নিতে হবে–সিসিক প্রশাসক  

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গত বছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এবারও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে নগরভবনের ষষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগরীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের সচিবরা অংশ নেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল সীমিত হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওয়ার্ড সচিবদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল কোথায় হতে পারে এবং কীভাবে তা ধ্বংস করা যায়—এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদের ইমাম, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন ক্লাব এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জুমার নামাজের আগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মুসল্লিদের অবহিত করতে ইমামদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মহানগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে এসব কার্যক্রমের প্রচার বাড়ানো গেলে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মশকনিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ওষুধ ও স্প্রে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বৃদ্ধির বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ওয়ার্ড সচিবদের উদ্দেশে সিসিক প্রশাসক বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা হিসেবে আপনাদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই হবে আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।”

এ সময় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় ওয়ার্ড সচিবদের ধন্যবাদ জানান তিনি। সভা পরিচালনা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর।

সভায় বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। এ সময় ৪২টি ওয়ার্ডের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments