ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ দ্রæত পুনর্গঠনের দাবী জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে এ দাবী জানায় সংগঠনটি। এতে ব্যাংকের অতীত সুনাম ও গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অবিলম্বে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দোষীদের বিচার এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের আহŸায়ক নুর উন-নবী স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বলা হয়, স¤প্রতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বক্তব্যের পর গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে অনেক গ্রাহক আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে অর্থ উত্তোলনে ভিড় করেন। এতে কিছু শাখায় নগদ অর্থ সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রæপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনাকে গ্রাহকরা এখনও একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে দেখেন। তাদের অভিযোগ, সে সময় শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা হয়। পরে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন উপায়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসায় ব্যাংকে আমানত প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। গত প্রায় দুই বছরে ব্যাংকটিতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার নতুন আমানত জমা পড়ে। কিন্তু সা¤প্রতিক সময়ে পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে নতুন বিতর্ক এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে সেই আস্থার ভিত্তি আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।
স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, একটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তে একজন প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভ‚ত করা দীর্ঘমেয়াদে সুশাসনের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। গ্রাহকদের আশঙ্কা, এই সুযোগে অতীতে ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হতে পারে। তাই তারা অবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকে বন্ধ হিসাব চালু করলে মাশুল দিতে হবে না:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু আমানত হিসাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব হিসাব চালু করলে কোনো মাশুল দিতে হবে না।
গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নগদ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে বন্ধ হওয়া এসব হিসাব পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সা¤প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহক ব্যাংকের বিভিন্ন ডিপোজিট তথা আমানত স্কিমের হিসাব বন্ধ বা ‘পরিপক্ব হওয়ার’ পর নবায়ন করেননি।
এসব গ্রাহককে পুনরায় ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বন্ধ বা পরিপক্ব হওয়া হিসাবধারীরা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন করলে তাদের হিসাব পুনরায় চালু করে সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
এ জন্য ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া হিসাবগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে গ্রাহকদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ঠিকানার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



