রাজশাহী পুঠিয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দু’টি পরিবারের বাড়িঘর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থানায় মামলা নিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ৫৫ বছর আগে কেনা জমির দখল নিতে গত ১২ জুন তাদের ধোকড়াকুল গ্রামের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুশান্ত সরকারের মেয়ে সেলিনা সরকার (৩৩) পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, ধোকড়াকুল দিয়ারপাড়ার তৈয়ব আলী, সাইফুল, মাসুদ, কাউসার, কুদ্দুসকে বিবাদী করে এজাহারে বলা হয়, বাদী সেলিনা সরকারের দাদার বাবা আকলু সরকার ১৯৭০ সালে গ্রামের শহর উদ্দিনের থেকে ধোকড়াকুল মৌজার ৩৭ শতাংশ জমি (আরএস খতিয়ান ১১৮৬, দাগ ৩১৭১ ও ৩১৫৭) কিনে শান্তিতে ভোগদখল করছিলেন। তারা বর্তমানে পৈত্রিক সূত্রে বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে ভোগদখল করছেন।
কিন্তু সম্প্রতি বিবাদীগণ অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বপুরুষদের বিক্রিত জমি দাবি করে হাঙ্গামা করছেন। এর জেরধরে ১২ জুন বেলা ১১টায় তাদের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, বাদী সেলিনার ঘরে জমি ইজারার এক লাখ টাকা ও ৭০ হাজার টাকার আট আনি স্বর্ণের
গহনা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতি বাদী ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুটি পরিবারের বসত বাড়ির কিছুই অবশিষ্ট নেই। ঘরের টিনের চালা ও বেড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাবার পানির নলকূপটাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। সুশান্ত বলেন, তার দাদা জমি কিনে খারিজ করতে গিয়ে দেখেন ভুলবশত জমিটি শহর উদ্দিনের সহোদর জফর উদ্দিনের নামে রেকর্ড হয়েছে।
তারা রেকর্ড সংশোধনের মামলার উদ্যোগ নিলে জফর উদ্দিনের নাতিরা এসে জমির বাঁশ, পুকুরের মাছ ও গাছপালা কেটে নিলে তারা আইনের আশ্রয় নেন। আদালতে মামলা থাকলেও ১২ জুন তারা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালান।
বাদীর বাবা সুশান্ত সরকার এবং প্রধান বিবাদী তৈয়ব আলীর মামা সাইদুর হাসান পরস্পরের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সমঝোতার চেষ্টার দাবি করেন। কিন্তু কোনো পক্ষই বসতে চায় না বলেও উভয়ে দাবি করেন।
এেিক হামলার সুশান্ত’র ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ আসে। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। সুশান্তর স্ত্রী আরতি বলেন, তার প্রতিবন্ধী মেয়ে বাড়িতে একাই ছিল। বিবাদীরা রান্না করা ভাতটা পর্যন্ত সরানোর সুযোগ দেয়নি।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলায় বিলম্বের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল, তারা আসেননি। তাই বলম্ব হয়েছে।



