রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতা। বিশেষ করে পার্সিয়ান, ব্রিটিশ শর্টহেয়ার, স্কটিশ ফোল্ড, বেঙ্গলসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের বিড়ালের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিড়াল কেনাবেচার হাট ও স্থায়ী বিক্রিকেন্দ্রগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিরপুর-১ এলাকার সাপ্তাহিক বিড়ালের হাট। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসা এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা পার্সিয়ানসহ নানা জাতের বিড়াল নিয়ে আসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হাটের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা আরও বেড়েছে। বিড়ালের বয়স, জাত, স্বাস্থ্য ও বংশগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দাম কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়া রাজধানীর কাটাবান এলাকায় প্রতিদিনই পোষা প্রাণীর বড় বাজার বসে। এখানে বিড়াল, কুকুর, পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং তাদের খাদ্য ও পরিচর্যার সামগ্রী বিক্রি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এটি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পোষা প্রাণীর বাজার হিসেবে পরিচিত।
খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকায় মিরপুরের মতো সাপ্তাহিক বিড়ালের হাট না থাকলেও সেখানে একাধিক স্থায়ী বিক্রিকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। খিলগাঁওয়ের পূর্ব কুমিল্লা হোটেল সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি পোষা প্রাণীর দোকানে নিয়মিত পার্সিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের বিড়াল বিক্রি হয়।
বনশ্রীর ব্লক-ডি, সড়ক-৭ এলাকায়ও একাধিক পোষা প্রাণীর দোকান রয়েছে, যেখানে বিড়াল, খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যার সামগ্রী পাওয়া যায়। এসব স্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিড়াল বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া গুলশান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, উত্তরা ও রামপুরার বিভিন্ন পোষা প্রাণীর বিক্রিকেন্দ্রেও বিদেশি জাতের বিড়াল বিক্রি হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক কেনাবেচার পাশাপাশি এখন ক্রেতারা সরাসরি প্রাণী দেখে কিনতে আগ্রহী হওয়ায় এসব বিক্রিকেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিড়াল কেনার আগে অবশ্যই প্রাণীটির স্বাস্থ্য, টিকাদানের সনদ, বয়স ও পরিচর্যার তথ্য যাচাই করা উচিত। অসুস্থ বা অবৈধভাবে আমদানি করা প্রাণী কেনাবেচা থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



