নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রজেক্টরে প্রদর্শিত ভিডিওর শেষ অংশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠার ঘটনায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
শোকজ পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার ছবি’ প্রদর্শন সুস্পষ্ট অসদাচরণ ও চাকরি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি অসম্মানজনক ও চরম অবমাননাকর বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে’ উপলক্ষে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও কর্মশালার আয়োজন করে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হচ্ছিল। এ সময় প্রজেক্টরে প্রদর্শিত ভিডিওর শেষ অংশে প্রায় ১০ সেকেন্ডের জন্য শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের নজরে আসে।
ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। পরে নতুন করে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ইউটিউব থেকে চালানো ভিডিওতে প্রায় ১০ সেকেন্ডের জন্য শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। অনুষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থী বিষয়টি আগে খেয়াল করেনি। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীও ক্ষমা চেয়েছে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটেছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যস্ততার কারণে জাতীয় সংগীতের ভিডিওটি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নতুন করে অডিওর মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।



