এক স্বামীকে কেন্দ্র করে দুই স্ত্রীর মারামারি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক ইউপি সদস্যকে নিজের স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্য সড়কে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজারহাটসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার বাসিন্দা লিটন সরকারকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তারা মুখোমুখি হলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা চুল টানাটানি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক ও মিঠু মিয়া জানান, হঠাৎ করেই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই নারী মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তারা একে অপরকে উদ্দেশ করে ‘লিটন তোকে তালাক দিয়েছে’ বলে কথা কাটাকাটি করছিলেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত্ত করেন।

খবর পেয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুই নারীকে তার জিম্মায় নেওয়া হয়। তাদের চায়না বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হলে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

ইউপি সদস্য রিপন বলেন, দুই নারীই লিটনকে নিজের স্বামী হিসেবে দাবি করছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাদের সাময়িকভাবে তার জিম্মায় রাখা হয়।

দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই নারী অভিযোগ করেন, লিটন তাকে বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার কাছে এ-সংক্রান্ত তালাকনামাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তিনি তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এসেছিলেন।

ওই নারী আরও দাবি করেন, লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। লিটনের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তার আগের সংসারও ভেঙেছেন বলে জানান।

অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী দাবি করেন, লিটনের সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে। তাকে কোনো তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে লিটন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বাসস্ট্যান্ডে দুই নারীর হাতাহাতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনাটি নিয়ে চায়না বাজারসহ রাজারহাটে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বিষয়টি পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগের দিক থেকেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments