‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেব’—এমন ঘোষণা সংবলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রাম। এসব পোস্টারে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের (৩৫) নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাদপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টারগুলো দেখা যায়। পোস্টারে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগানও রয়েছে। পরে পোস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
তবে পোস্টারগুলো তিনি লাগাননি দাবি করে খোকন বলেন, এর পেছনে জামায়াতের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে তার ছেলে চাঁন মিয়াকে স্কুলে চড় মারেন সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেমের ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
খোকন বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দল ক্ষমতায় এলেও আমি আগের মতো গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। এলাকার মানুষ তা জানে। এমনকি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী নই।’
খোকন একই গ্রামের খলিল ভূঞা বাড়ির মো. আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দুই দফায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আবারও ওই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।
অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম বলেন, খোকনকে ঘিরে তার নিজের দলেই মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, খোকনের ছেলে তাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় তার ছেলে ওই ছেলে-মেয়েকে চড় মেরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করেন আবুল হাসেম।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, পোস্টারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



