নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ: স্ট্রেন্থেনিং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশে এবারই প্রথম জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। আগে এ বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী চার বছরে তা ধীরে ধীরে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি সেমিনারের চারটি উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, প্রথমত শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, দ্বিতীয়ত শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানে যুক্ত করা, তৃতীয়ত কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া এবং চতুর্থত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার সংযোগ স্থাপন করা গেলে গবেষণার ফলাফল সমাজ ও অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যাকে গবেষণার বিষয় হিসেবে নিয়ে নতুন প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি বলেন, এ সেমিনারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। আলোচনায় উঠে আসা মতামত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী, টেকসই ও ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন ও আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী। মডারেটর ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক জি এম রাকিবুল ইসলাম।
সেমিনারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ওষুধশিল্প ও ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নোবিপ্রবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসব সমঝোতার আওতায় শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষক বিনিময়, পারস্পরিক চাহিদা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



