দেশে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনে ঘাটতি বেড়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ঢাকা শহরে লোডশেডিং হার বাড়িয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী রবিবার দিবাগত রাত ২টায় দেশে রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছে। ১৭ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট সঞ্চালন গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। লোডশেড হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সঞ্চালন উপকেন্দ্র থেকে বিতরণ উপকেন্দ্র হয়ে গ্রাহক পর্যায়ে এ লোডশেডের পরিমাণ আরও বেশি।
রবিবার রাত ৯টায় দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে ৬ হাজার ২০৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেড হয়েছে ৩৮৫ মেগাওয়াট। অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১ হাজার ৫১৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে লোডশেড হয়েছে ৪২০ মেগাওয়াট।
দেশে বর্তমানে ২৯ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। মানুষের অনুভূত গরম আরও বেশি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ না পেয়ে বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত তিন দিনে অন্তত: ১০টি জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও বা বিদ্যুৎকর্মীদের সাথে গ্রাহকদের তুমুল বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে লোডশেডিং ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার দিবাগত রাত ২টা-৩টায় দিকে দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়- ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটে ঘাটতি
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকট, কারিগরি ত্রুটি এবং অর্থ সংকটের কারণে বাস্তবে গড় উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন না করতে পারার কারণ মোটাদাগে চারটি। সেগুলো হলো- গ্যাসের ঘাটতি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়া, তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল।
ভোগান্তি বেশি গ্রামে
বিদ্যুৎ সংকটের বড় চাপ পড়ছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকায়। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, দৈনিক ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও খারাপ। ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকায় ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকলেও কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে। অনেক এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংকট অনেক বেশি তীব্র। এমনকি ঢাকা শহরের বাইরে জেলার বাকি এলাকাগুলোতেও দৈনিক লোডশেডিং ৬ ঘন্টার বেশি।
ফুটবল বিশ্বকাপ, গরম ও রিকশার চার্জিংয়ে বাড়ছে চাপ
পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, তীব্র গরমে এসি ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে রাতের দিকে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং এবং ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার কারণে মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা কমছে না। দুই বছর আগেও মধ্যরাতের পর বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট কমে যেত। এখন রিকশা চার্জিংয়ের কারণে সেই কমে আসার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি বিদ্যুৎ অফিসগুলোর
লোডশেডিং নিয়ে জনরোষ বাড়ায় মাঠপর্যায়ের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস ও সাবস্টেশনসহ ১১টি স্থাপনার নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে। অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের উদ্যোগ ও চিন্তার কথা জানা গেছে।



