পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি ত্রাণ সহায়তা ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল আইএসপিআর জানায়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১ টি পরিবারকে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী টিম নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করেছে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
আইএসপিআর আরো জানায়, আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পানিবন্দি মানুষের পাশে নৌবাহিনী ঃ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বিজয় নগর, আকমল আলী রোড, নিউ মুরিং মাদ্রাসা, নারিকেল তলা ও নেভি হাসপাতাল গেইট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনী দল। এ সময় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে নৌবাহিনীর সদস্যরা ২ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
বান্দরবানে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিজিবি :
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাত থেকেই বিজিবি বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিলের নেতৃত্বে সেক্টর দপ্তরের সদস্যরা বান্দরবান জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী ক্রাইক্ষ্যংপাড়ার বন্যাদুর্গত ১২২টি পরিবারকে নিরাপদে উদ্ধার করে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল এবং ক্রাইক্ষ্যংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে বিজিবি।
এ বিষয়ে বিজিবি বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তর জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম মানবিক অঙ্গীকার। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, ভূমিধসসহ উদ্ভূত বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



