‘ভারতে আপনারাই হবেন বাংলাদেশের দূত’

আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বললেন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিপাঠী

ভারতে পড়াশোনার সুযোগকে শুধু একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধন তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিপাঠী। তিনি বলেছেন, ‘ভারতে আপনারাই হবেন বাংলাদেশের দূত।’

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার ১২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শিগগিরই এসব শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, ফার্মেসি, চারুকলা, সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করবেন।

দিনেশ ত্রিপাঠী বলেন, ভারতে পড়াশোনার সুযোগকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতে তারাই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭ হাজার ৭০০-এর বেশি আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ৫৪১ জন আইসিসিআর বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ আবেদনকারীদের মাত্র ৬ শতাংশ এই সুযোগ পেয়েছেন। এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি বৃত্তি এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ভারতে পড়াশোনা তাদের দেশটির সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দেবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের ওপর আস্থা রেখে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৪১ জন শিক্ষার্থী আইসিসিআর বৃত্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ জন পেয়েছেন সুবর্ণ জয়ন্তী স্কলারশিপ। এর আওতায় তারা স্টেম ও নন-স্টেম—উভয় ধারায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা করবেন।

এ ছাড়া ৩৮ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর নৃত্য ও সংগীত বৃত্তি। এর মাধ্যমে তারা নৃত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আরও তিনজন শিক্ষার্থী কোয়াড স্কলারশিপের আওতায় ভারতে স্টেম বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।

আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক শিক্ষা কার্যক্রম। এর আওতায় বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানবিক, চারুকলা ও অন্যান্য বিষয়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বৃত্তিতে পড়াশোনার সুযোগ পান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments