হাম ও উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ গেল ৫৪৫ শিশুর

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত হয়ে এবং বাকি ১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ জনে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৫৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় ৬ জন, সিলেটে ৩ জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহে একজন মারা গেছে। এ সময়ে নতুন করে ৯৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনে।

একই সময়ে ১ হাজার ১২৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ জন।

এদিকে বায়ুবাহিত এ রোগ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে শিশুর মৃত্যু যে ভয়াবহতা তৈরি হয়েছে। এতে হামের চিকিৎসায় দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের আসন্ন ঈদের ছুটি বাতিল ঘোষনা করেছে সরকার।

হাম পরিস্থিতি কেন এত খারাপ হলো, নেপথ্যে কী- সেই কারণ খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচওকে একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে সরকার। এ বিষয়ে বৈশ্বিক এই সংস্থাটির কাছ থেকে ইতিবাচক জবাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ঢালাও দোষারোপ করতে চাই না বা কাউকে এককভাবে দায়ও নিতে চাই না। তবে ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য হাম পরিস্থিতি কেন এমন হলো সেটা জানা দরকার। সেজন্যই একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনকোয়ারির জন্য ডব্লিওএইচওকে আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছি। তারাও আগ্রহ দেখিয়েছে।’

যদিও এর আগে ইউনিসেফ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল, হাম পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়েছিল এবং এছাড়া বিভিন্ন বৈঠকে অন্তত ১০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান দেশের সংবাদ মাধ্যমের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় ইউনিসেফের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনও হামের এই ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য বরাবরই বিগত সরকারের টিকা সংগ্রহ ও টিকাদানে ব্যর্থতাকেই দায়ী করে আসছেন। বাংলাদেশ সাধারণত শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই ক্যাম্পেইন হয়নি বলে জাতীয় সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্রয় করবে সরকার:
সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২০০,০০০ আইইউ ও ১০০,০০০ আইইউ) ক্রয়ের একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৫তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, জরুরি এই পুষ্টি উপাদানের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্রয়ের জন্য নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন। কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে।

এদিকে ঈদুল আজহার ছুটিতেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইনডোর ও জরুরি বিভাগ। এ ছাড়া ২৭ ও ৩০ মে খোলা থাকবে বহির্বিভাগ। এতে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন রোগীরা।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএমইউ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিএমইউ’র ইনডোর ও জরুরি বিভাগ সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। সেইসঙ্গে ২৭ ও ৩০ মে বহির্বিভাগ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments