ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৬-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি ছড়িয়েছে। কারণ একটাই, অধিনায়ক লিওনেল মেসির অপ্রত্যাশিতভাবে মাঠ ছেড়ে যাওয়া। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে নিজেই বেঞ্চের দিকে ইশারা করে বদলির অনুরোধ জানান এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এরপর ৭৩তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে সরাসরি চলে যান ড্রেসিংরুমে। মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ, তাই স্বাভাবিকভাবেই তার ফিটনেস নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।
মাঠ ছাড়ার আগে ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন মেসি। তবে খেলার শেষ পর্যায়ে বাম পায়ের পেছনের অংশে হাত দিয়ে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায় তাকে। এর পরপরই তিনি বদলির ইশারা করেন।
চতুর্থ অফিশিয়াল যখন ১০ নম্বর জার্সির বোর্ড তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মেসিকে মাঠে প্রায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটেননি এবং বড় ধরনের অস্বস্তির কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি। কোনো ধরনের সাহায্য ছাড়াই তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করেন।
অবশ্য বিগত কয়েক বছরে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে একাধিকবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে এই কিংবদন্তিকে। এমনকি চলতি বছরের শুরুতে মায়ামির প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির কিছু অংশও মিস করেছিলেন একই কারণে।
গত এক মাসে এমএলএস-এর সব ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলার পর হঠাৎ এই বদলি চাওয়া এবং বেঞ্চে সতীর্থদের সঙ্গে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়াটাই মূলত তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ ও জল্পনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে মায়ামির কোচ গিয়ের্মো হোয়োস জানান, মেসি আদৌ চোট পেয়েছেন কি না, তা তখন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে বদলি করা হয়েছে উল্লেখ করে হোয়োস বলেন, ‘আমার যতদূর জানা, এখনো কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট আসেনি, তবে শিগগিরই আমরা তা পাব।’
মেসির মাঠ ছাড়াকে মূলত ‘ক্লান্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কোনো ঝুঁকি না নেওয়ার নীতি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেসির বদলি হিসেবে মাঠে নামা মাতেও সিলভেত্তি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে আমরা আশা করছি, এটা গুরুতর কিছু নয়।’



