রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক নার্গিস জুঁই এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্গিস জুঁই কোতোয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সিএমএম কোর্টের ৪র্থ তলার ৬ নম্বর আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন নার্গিস জুঁই। এ সময় বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে লোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এছাড়া মুখমণ্ডল ও নাকে আঘাতের ফলে তিনি রক্তাক্ত হন এবং একটি দাঁত নড়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নার্গিস জুঁই আরও অভিযোগ করেন, আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও উত্তেজিত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তার স্বামী সৈয়দ শাহ নেওয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি এবং তার বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ডিআরইউ’র নিন্দা ও উদ্বেগ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও নারী সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ওপর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের বারান্দায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিআরইউ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জুন সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই তার স্বামী সৈয়দ শাহ্ নেওয়াজ হোসেনের দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত বিষয়ে সিএমএম কোর্ট ভবনের ৪র্থ তলায় ৬ নম্বর আদালতের সামনের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
হামলার ফলে সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। ঘুষির আঘাতে তার উপরের ঠোঁট ও নাক রক্তাক্ত জখম হয় এবং একটি দাঁত নড়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে তার স্বামী সৈয়দ শাহ্ নেওয়াজ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য নির্ধারিত আদালত প্রাঙ্গণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে একজন নারী সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, উদ্বেগজনক এবং আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ এবং অবাধ চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একজন নারী সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিক নার্গিস জুঁইয়ের ধারণা, তার ভাসুরদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত সম্পত্তি নিয়ে তার বিরোধ চলছে। এর জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে।

তিনি বলেন, বাবার কিনে দেয়া জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর বড় ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলমান রয়েছে। এরই জের ধরে ২০২০ সালের ৫ জুলাই ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীরা তাকে ফ্ল্যাটে তালাবদ্ধ করে গান পাউডার ছিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ ও সাংবাদিকরা এসে সে যাত্রায় তাকে রক্ষা করে।
কিন্তু পরে সন্ত্রাসীরা তাকে ফ্ল্যাটে তিন মাস তালাবদ্ধ করে রাখে। তার বাবা কিনে দেওয়া সম্পদের মধ্যে স্বামীর ভাইরা একটি ফ্ল্যাট দখল করেছে। বাকি ফ্ল্যাটগুলো দখর করার জন্য আদালতের বারান্দায় তার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, মামলা ও প্রাননাশের হুমকি প্রদানসহ মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে হয়রানি করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা জালজালিয়াতি করে ভুয়া কাগজ তৈরি করেছে। এমন কি বাসার দারোয়ান ও ভাড়াটিয়াদের দিয়ে আমার পরিবারকে লক্ষ্য কওে গালিগালাজ করে। এমনকি আমাদের আত্মীয় স্বজন কেউ বাসায় আসলে তাদের হত্যার হুমকি দেয় ও তাদের নামে মামলা করার হুমকি দেয়। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।



