কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের চেষ্টার শিকার পাঁচ বাংলাদেশি যুবক টানা সাত দিন ধরে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন অবস্থান করছেন।
তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে দিন কাটছে তাদের। সেখানে নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের কোনো ব্যবস্থা। ফলে চরম দুর্ভোগ ও মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন এসব যুবক। এদিকে পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের উভয় পাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তারা দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখার ভারতের অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে গত বুধবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এখনও পাঁচ যুবক একই স্থানে আটকে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মানবিক সমাধানের দাবি জানিয়ে বলেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”



