একটি ব্রিজ ও দেড় হাজার পরিবারের গল্প

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ধসে যাওয়ার চার বছর পার হলেও এখনো নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

ফলে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল আনন্দবাজারের দক্ষিণ পাশে এই দুর্ভোগের চিত্র। প্রায় চার বছর আগে ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কালভার্টটি ধসে পড়ে। সেই সঙ্গে সড়কের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ বড় গর্তে পরিণত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কালভার্টটি ধসে যাওয়ার পর থেকে এলাকার নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা চার বছর পেরিয়ে গেলেও এই জনপদের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, অসুস্থ রোগী ও কর্মজীবী মানুষ। 

চরগোরকমন্ডল এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক হওয়ায় কালভার্ট ধসের পর মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। তবে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই অনেককেই কোমরসমান পানি পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা এবং রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত একটি স্থায়ী বড় ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

চরগোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন বলেন, ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে ছোট কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই প্রায় দেড় হাজার পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে ভোগান্তি কিছুটা কম থাকলেও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। টানা চার বছর ধরে এখানে একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তিনি নিজেও লজ্জিত ও হতাশ বলে জানান।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, আনন্দবাজারের দক্ষিণে চরগোরকমন্ডল এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছর আগে ভয়াবহ বন্যার সময় সেটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে ওই এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবার এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়রা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments