অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল লা রোহা
নিউ জার্সির ফাইনাল যেন ছিল দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের মহারণ। একদিকে বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শক্ত রক্ষণ গড়ে তুলে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল লা রোহার হাতে। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি ও দানি ওলমোদের ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধে ইয়ামালের জোরালো শট এবং দ্বিতীয়ার্ধে নিকো উইলিয়ামসের কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে আক্রমণে খুব একটা ছন্দ খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ লিওনেল মেসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে। জুলিয়ান আলভারেজ ও অন্যান্য ফরোয়ার্ডরাও উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে না পারায় গোলশূন্যভাবেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ফাউল, হলুদ কার্ড ও লাল কার্ডে উত্তপ্ত ফাইনাল
উচ্চমানের ফুটবলের পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে ছিল উত্তেজনা ও শারীরিক লড়াই। স্পেনের দ্রুতগতির আক্রমণ থামাতে একের পর এক কঠোর ট্যাকলের আশ্রয় নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে রেফারিকে একাধিকবার হলুদ কার্ড বের করতে হয়।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় রক্ষণে আরও চাপে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
১০৬ মিনিটে শিরোপা নির্ধারণ
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র এবং শিরোপা নির্ধারণী গোল। বাম দিক থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডে বাড়ানো বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন। মার্তিনেজ এবার আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি মেসির দল।
ইয়ামালের হাসি, মেসির হতাশা
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে হতাশ মুখে মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি।
এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। পাশাপাশি নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তিও গড়ল লা রোহা। নিউ জার্সির ফাইনালে আধিপত্য, ধৈর্য ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল স্পেন।



