‘পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়’

  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর; ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। বরং এটি হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক একটি প্রতিষ্ঠান, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে দায়িত্ব পালন করবে।”

রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের আস্থা অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে নবীন কর্মকর্তাদের দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মূল্যবোধ ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে তারা যেন সাধারণ মানুষের প্রকৃত বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সে আহ্বানও জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, নতুন বাস্তবতায় পুলিশ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাপনী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।

সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি ‘বেস্ট ইনডোর’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

এ ছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণে ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পদায়ন পাবেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments