আহত অন্তত ৩৭, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজসহ দেশের আরও দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিতুমীর কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি সংঘর্ষ
সরকারি তিতুমীর কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এতে কলেজ শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসাইন ও সদস্য সচিব আল নোমান নিরব আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজের অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর হামলা চালান। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত আল নোমান নিরব অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের কথাবার্তা ছাড়াই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এ বিষয়ে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ২০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্রশিবিরের পূর্বঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির র্যালিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিবিরের র্যালি ভিসি গেট হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে উঠলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
শিবিরের অভিযোগ, মিছিলে বহিরাগত থাকার অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ অন্তত ১২ জন এবং ছাত্রদলের ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, আলামিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আবদুল্লাহি বাকি, আল মামুন সিয়ামসহ কয়েকজনকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তরিকুল, প্রান্ত, হেনা ও আবদুর রহিমসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ববি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল।
তবে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল হামলা করেছে। তিনি হামলার বিচার দাবি করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের এডিসি বেলাল হোসাইন বলেন, ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজে সংঘর্ষ, আহত ৭
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজের অনুষ্ঠান শেষে চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, মনির ও ইসমাইল এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন।
শিবিরের দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবির পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে সেখানে জড়ো হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা জিয়া অভিযোগ করেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে।



