রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন সঞ্চালন অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল নকশা থেকে কয়েকটি ব্যয়বহুল উপাদান বাদ দেওয়ায় সংশোধিত প্রস্তাবে এই ব্যয় কমতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশন এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় এখন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমাও বাড়িয়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও জ্বালানি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. নুরুন নাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত ব্যয় মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ২১ দশমিক ২২ শতাংশ কম, ফলে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হবে। সংশোধিত অর্থায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে আসবে ছয় হাজার কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং পিজিসিবি নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ১ হাজার ১৭১ কোটি টাকা।
পিজিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, মূল প্রকল্প নকশা থেকে কয়েকটি ব্যয়বহুল অংশ বাদ দেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বড় পরিমাণে কমানো সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর দিয়ে পরিকল্পিত ২০ কিলোমিটার নদী অতিক্রমকারী সঞ্চালন লাইন বাদ দেওয়া। দরপত্র প্রক্রিয়ায় এটির সম্ভাব্য ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা বর্তমান প্রকল্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ অংশটি আলাদা একটি দেশীয় প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ ও জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় ২৩০ কেভি ধামরাই সাবস্টেশন সম্প্রসারণকেও ভারতীয় এলওসি অর্থায়ন প্যাকেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় কমেছে, তবুও বাস্তবায়ন পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার উচ্চ বিনিময় হার সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
২০১৮ সালে প্রকল্পের মূল প্রস্তাব তৈরির সময় প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮০ দশমিক ৮৩ টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে গড়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছে ১০৩ দশমিক ৭৯ টাকা। কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন উপাদান বাদ দেওয়ায় ডলার হিসাবে প্রকল্প ব্যয় কমলেও স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে সেই সাশ্রয়ের একটি অংশ ক্ষয় হয়েছে।
সময়সীমা বাড়ানোর ফলে পিজিসিবি বাকি উচ্চ ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন ১৫০ কিলোমিটার রূপপুর-ঢাকা লাইন এবং ১৫৫ কিলোমিটার রূপপুর-গোপালগঞ্জ লাইন সম্পন্ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য নির্মিত গ্রিড অবকাঠামোর বড় অংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ গ্রহণের উপযোগী করতে কমিশনিং কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে।



