নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে আপত্তিকর ছবি আঁকা এবং নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রাত ১১টার দিকে হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ১২টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে হলের ছাদের কাজ চলছিল। কাজের শেষ দিন হলের ছাদ সংস্কারকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে কুরুচিপূর্ণ ছবি আঁকেন। বুধবার সকালে তারা প্রথম ছবিটি দেয়ালে দেখতে পান। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। তাদের অভিযোগ, কিছু শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও ইঙ্গিত করে আসছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি, হলের নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা দেয়ালে অঙ্কিত একটি চিত্র দেখতে পেয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা না যাওয়ায় ওই চিত্রটি মুছে ফেলা হয় এবং সকালে বিষয়টি সমাধান করা হয়। তবে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে এ নিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
এ দিকে হযরত বিবি খাদিজা হলে সংঘটিত ঘটনায় তিন সদস্যেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট ড. নাহিদ সুলতানাকে আহŸায়ক এবং হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট নাজমুন নাহার ও হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট তাসনীম আলমকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।



