খবরের কণ্ঠ প্রতিবেদক
সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলের আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরে বনানীর সিসা বারে হত্যা করা হয় রাহাত হোসেন রাব্বিকে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মাকসুদুর রহমান হামজা ও মুন্না নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে এমন তথ্য পেয়েছে র্যাব।
গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় র্যাব-১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর পরিচালক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, রাজধানীর বনানীর ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নামের সিসা বারে নিয়মিত অপরাধিদের বিচরন ছিল। সেখানে মাদক কারবারী, সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের পাশাপাশি কিশোর তরুণ গ্রুপের নিয়মিত রাতবিরাত আড্ডা হত। এই সিসা বারের আধিপত্য ধরে রাখতে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। আর এর জের ধরে রাহাত হোসেন রাব্বিকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।
দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে র্যাব-১ এর পরিচালক বলেন, গত ১৫ আগস্ট র্যাব-১ এর একটি দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকা-ে জড়িতদের মধ্যে প্রথমে মাকসুদুর রহমান হামজাকে কুমিল্লার বরুড়া থানা এলাকা গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাবাদে হামজার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার বরুড়া থানাধীন গামরুয়া এলাকা থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রাব্বির সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল জানিয়ে র্যাব জানায়, তারা সবাই নিয়মিত বনানী সিসা লাউঞ্জে আসা যাওয়া করত। বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লাউঞ্জের ভেতর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৪ আগস্ট বনানী থানা এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বি তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকনসহ ‘৩৬০ ডিগ্রি’ সিসা লাউঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠানে যান। এরপর ভোর ৫টা ২৮ মিনিটের দিকে সিসা লাউঞ্জ ভবনের চতুর্থ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে দ্বিতীয় তলায় আসার সময় মুন্না এবং মাকসুদুর রহমান হামজা রাহাত হোসেন রাব্বির পথরোধ করে দাঁড়ান। তখন রাহাত মুন্নাকে বলেন, ‘মুন্না তুই এই সময় এখানে কেন? কথা বলা মাত্রই রাব্বির সঙ্গে মুন্না ও মাকসুদুর রহমান হামজার তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে মুন্না তার পাঞ্জাবির পকেটে থাকা ধারালো চাকু বের করে রাব্বিকে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং হামজা লাঠি দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাব্বির ডাক চিৎকারে আশেপাশে থাকা লোকজন তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব জানায়, এ ঘটনার পর র্যাব-১ এর একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত করতে সক্ষম হয় তারা।
এ বিষয়ে লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১ ১৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন রাজিয়া সুলতানা রোড এলাকায় হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তার তদন্ত চলছে।
এমন আরো অনেক অবৈধ সিসা বারে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে জানিয়ে র্যাব বলছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ঢাকায় অবৈধ সিসা বারে শিগগিরই অভিযান চালাবে র্যাব।



