রাজধানীর কুড়িলের প্রগতি সরণিতে একটি চার তলা বাড়ির নিচতলা দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। গতকাল সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আনসার ভিডিপির উপপরিচালক কামরুন নাহারের স্বামী এএসএম নোমান আলম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৈত্রিক সূত্রে বাড়ির মালিক কামরুন নাহার ও তার আইনজীবী খায়রুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের শাহীন কোচিং সেন্টারের মালিক মো. মাছুদুল আমীন শাহীন ও তার লোকজন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর ও যুক্তপত্র তৈরি করে কুড়িলের প্রগতি সরণীর ৯৬/৩-ক নম্বর বাড়ির নিচতলা দখল করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এএসএম নোমান আলম জানান, তার স্ত্রী আনসার ও ভিডিপি’র ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপপরিচালক কামরুন নাহার পৈত্রিকসূত্রে চার তলা বাড়ির মালিক। ওই বাড়ীর ২ হাজার ৫’শ বর্গফুট আয়তনের নীচ তলাটি গাড়ীর শো-রুম করার জন্য রয়েল সিলেকশনের মালিক রশিদ আহমেদ জুয়েলের সাথে গত ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তিপত্র হয়। যার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ওই আলোকে রশিদ আহমেদ জুয়েল গাড়ীর শো-রুম দিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। পরে তার অজান্তে মো. মাছুদুল আমীন শাহীন জুয়েলের সাথে ব্যবসা শুরু করে। পরে সে তার স্ত্রী কামরু নাহারের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র তৈরি করে। পরে ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল জুয়েলকে শো-রুম থেকে বের করে দিয়ে ওই দিন রাত পৌনে ২টায় ওই বাড়ীর বেসমেন্টের তালা কেটে ২টি ফ্লোর দখল করে। গত ২ মে তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে বিবাদী করে দ্বিতীয় সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করে (মামলা নং- ২৮৩/২৩)। আদালত শুনানি শেষে গত ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল ওই মামলাটি খারিজ করেন দেন। পরে গত ২০২৪ সালের ২৯ মে মো. মাছুদুল আমীন (শাহীন) একই আদালতে বাড়ী ভাড়া মোকদ্দমা দায়ের করলে (মোকদ্দমা নং- ১৭/২৩) আদালত গত ২৬ আগস্ট ওই মামলটি নামঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, গত ২০২৩ সালের ৩১ মে মো. মাছুদুল আমীনের (শাহীন) বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া চুক্তিপত্রের ঘটনায় তার স্ত্রী কামরুন নাহার বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন (সি.আর.মামলা নং- ২৮৭/২৩)। ওই মামলাটি পিবিআই তদন্ত শেষে মাছুদুল আমীনসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির প্রমাণসহ ১৪ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন করেন (রিভিশন নং- ২২৮৫/২০২৪)। হাইকোর্ট বিভাগ ২০২৪ সালের ১২ জুন ৭২ ঘন্টার মধ্যে বেইসমেন্টের গেট আনলক করার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু মাছুদুল আমীন (শাহীন) হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে এখন পর্যন্ত বেইসমেন্ট জোড়পূর্বক দখল করে আছে। পরে তার স্ত্রী ও তাকে শাররীক-মানসিকভাবে হয়রানী করায় গত ১ সেপ্টেম্বর সিএমএম আদালতে দন্ডবিধির ধারায় আরজি করলে আদালত ওই অভিযোগটি এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেন। ওই ঘটনার পর থেকে মাছুদুল আমীন ও তার লোকজন বিভিন্নভাবে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে তাদেরকে হেয়-প্রতিপন্ন করে আসছে। অপরদিকে উত্তরার মো. আরজ আলী নামের এক ঠিকাদারের ৩৬ লাখ টাকাও আত্মসাৎ করার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে মাছুদুল আমীনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।



