সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার লিয়াজোঁ অফিসার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর নিকট হতে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জনকারী ব্যক্তির ৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই বাজেয়াপ্তের আদেশ প্রদান করে। একই সাথে আদালত উক্ত আসামীর বিদেশ গমনাগমনেও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে।
চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করা এই ব্যক্তির নাম মোতাল্লেছ হোসেন। এপ্রেক্ষিতে সিআইডি পল্লবী থানায় প্রতারক মোতাল্লেছ হোসেনের নামে দায়ের করা মানিলন্ডারিং মামলার অগ্রগতি হিসেবে অর্থ বাজেয়াপ্ত করে।
মোতাল্লেছ হোসেন নিজেকে কখনও গার্মেন্টস মালিক, কখনও চা-বাগানের উদ্যোক্তা বা ঠিকাদারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে তিনি বিএনপির দলীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বলে তার নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং তা আত্মসাৎ করেন।
মামলাটি তদন্তকালে জানা যায়, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকে ১টি, সিটি ব্যাংকে ২টি, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ২টি ও সোনালী ব্যাংকে ১টি অর্থাৎ অভিযুক্তের ৮টি অ্যাকাউন্টে উক্ত অর্থ সংরক্ষিত ছিল।
সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, মোতাল্লেছ হোসেন নিজেকে খালেদা জিয়ার লিয়াজোঁ অফিসার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তদন্তকালে আরও প্রকাশ পায়, মোতাল্লেছ হোসেনের নামে থাকা এম এল ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে অস্তিত্বহীন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম বা ঠিকাদারি ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পাওয়া যায়নি।



