রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম. আসাদুজ্জামান বলেছেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে যে নির্বাচন হয়েছিল, তাতে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছিল। আদালতের রায়ে এই সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় দেশের মানুষ ভবিষ্যতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন। দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবেন না। দেশ গণতন্ত্রের মহাসড়কে হাঁটবে। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদে তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থার যে রূপরেখা আছে, তার পরিবর্তন সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পার্লামেন্টের কিছু ডিসকাশন (আলোচনা) থাকবে। ২০ বছর পরে জনগণ যদি মনে করে এই ব্যবস্থা পচেগলে গেছে, এর থেকেও ভালো কোনো ব্যবস্থা গণতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন, তাহলে অবশ্যই পার্লামেন্টের ডিসকাশন থাকবে।
দেশের বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট রায় দেয় কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটি আমি মনে করি না। কোন রায় রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট, আর কোন রায় আইনি ব্যাখ্যায় দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে, গণতন্ত্র রক্ষা করবে, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করবে, আইনের শাসন রক্ষা করবে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্বহাল করবে, তা জাতি বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলো। এটা কার্যকর হবে পরবর্তী সংসদ ভাঙার পরের ১৫ দিনের মধ্যে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে ফুল জাজমেন্টে আসবে বলে আমি মনে করি। ত্রæটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত বলেই তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি বাতিল করা হয়েছে। অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা কারণ ছিল, এই রায় লেখার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও তাঁর সহযোগীরা দন্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ করেছেন। গণতন্ত্রের স্বার্থে ভবিষ্যতে আবার এই রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য আসবে না বলে মনে করেন তিনি।



