গণতন্ত্র উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল চক্রান্ত করছে : ফখরুল

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল বা ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,বাংলাদেশ এখন একটা ট্রাজিশন পিরিয়ডে আছে।

একটা ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন যে শাসন আমাদের সমস্ত মূল্যবোধগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

সেই ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি এবং নির্বাচনের পরে একটা নির্বাচিত সরকার,নির্বাচিত পার্লামেন্ট আমাদের দেশকে আমাদের জাতিকে সঠিক পথ এগিয়ে নিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা আমরা সবাই করছি। এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে যে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, মহল তারা এই ট্রাজিশনাল যে প্রসেস এটাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ভয়ঙ্করভাবে চক্রান্ত করছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি আজকে আবারো এই চক্রান্তের ফলে নিহত শহীদ হয়ে যাওয়া ওসমান বিন হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহ তালার কাছে এই দোয়া চাইছি যে, আল্লাহতালা তাকে যেন বেহেশতে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানে নিয়ে যান।

মির্জা ফখরুল বলেন,আপনারা দেখেছেন যে, এই ট্রাডিশনাল পিরিয়ডে সরকারের ব্যর্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের যে সরকার, সেই সরকার অন্তত এই কয়েকটা মাস তারা তাদের যোগ্যতার পরিচয় দেবেন এবং দক্ষতার সঙ্গে দেশকে পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে, তারা তাদের কথা রেখেছেন যে, ২৬ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন সেটাই করছেন।

নির্বাচনের যে পরিবেশ তৈরি করা এই পরিবেশ তৈরি করার জন্য তাদেরকে আরও সচেতন এবং ইতিবাচক ভ‚মিকা পালন করা দরকার, আরও কার্যকরী ভ‚মিকা পালন করা দরকার এবং এই বিষয়গুলোতে তাদের ফোকাস আরও বেশি দেবেন এবং তারা আরও ভালোভাবে নির্বাচন যেন অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেই বিষয়গুলো দিকে লক্ষ্য রাখবেন এটা আমরা আশা করি।

ফখরুল বলেন,শরিকদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা শেষ হয়ে গেছে। শরিকদের সঙ্গে আমাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা যথাসময় জানতে পারবেন, যথাসময় তা ঘোষণা করা হবে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জমিয়ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় দল, তাদের সঙ্গে আমাদের একটি নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে।

আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে যে সমস্ত আসন তাদের সাথে আমাদের সমঝোতা হয়েছে ওই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না। সারা বাংলাদেশে অন্যান্য আসনে ওনাদের কোন প্রার্থী থাকবে না। আমরা সেই সমযোতার মধ্যে উপনীত হয়েছি।তিনি জানান, আগামী দিনের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছে বিএনপির তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,আমরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করব, যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পঞ্চম সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন আমরা করবো না, সেটা আমরা অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছি।

কওমি লাইনের মাদ্রাসা থেকে যারা পাস করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি আছে সেই লাইনে এবং সেই হিসেবে আমরা কিছুদিন আগে আমাদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি, সামনের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে যে, ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন তাদের জন্য আমরা রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করব, উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করব এবং যেটা একটা ট্রাস্ট আছে সেই ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নেবো এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ধর্মশিক্ষক হিসেবে বিধি মোতাবেক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে অথবা বিবেচনা করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments