রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এবার আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধু ছবি রেখে স্লোগান দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগের একদল নেত্রী। এ সময় তারা বেশ কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মীকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে এ স্লোগান দেয়। এ সময় স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তারাও যুবলীগ নেত্রীদের সঙ্গে স্লোগানে তাল মেলান।
এ বিষয়ে সংগঠনটির একজন নেত্রী জানান, ‘ কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে আজকে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন; ধানমন্ডির এই আওয়ামী লীগ অফিস আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে।’
এর আগে গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয় অন্তরবর্তী সরকার। সেই হিসেবে যুব মহিলা লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। তবে বৃহস্পতিবার সকালে সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে ১০/১২ জন নেত্রী উপস্থিত হন। সেখানে কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে তারা আবার চলে যান।
৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছিল উত্তেজিত জনসাধারণ। প্রায় দেড় বছর পর এবার সেই কার্যালয়ের ফটকের সামনে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে সারাদেশে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা বিভিন্ন কার্যালয় খোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও শান্তিপূর্নভাবে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন।
জানতে চাইলে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ জানায়, যুব মহিলা লীগের একদল নেত্রী ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে এ স্লোগান দেয় বলে জানতে পেরেছেন তারা। তারা শান্তিপুর্ণভাবে কিছু সময় দলীয় কর্মকাণ্ড চালায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও হামলা হয়। ভবনে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর পর ধেকে স্থানীয় কিছু নেশাগ্রস্ত যুবক ওই পোড়া ভবনকে তাদের আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয়। আবার স্থানীয় কিছু লোককে ভবনটি ঘিরে পাহারা দিতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কেউ সেখানে গেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সূত্র বলছে, ২০০২ সাল থেকে ভবনটি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছিল। তিন তলা ভবনে দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের জন্য কক্ষ ছিল। দ্বিতীয় তলায় ছিল দলের মুখপত্র উত্তরণের অফিস। এ ছাড়া তৃতীয় তলায় আওয়মী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম চলত।
প্রথমে ভাড়া নেওয়া হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ভবনটি দলের নামে কিনে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে পাশের চার তলা দুটি ভবন কিনে দলীয় সভাপতির কার্যালয়টির সমপ্রসারণ করা হয়। এরপর ভবন দুটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে কেনা হয়। এই দুই ভবনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা এবং কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যরা বসতেন। এখানকার একটি কক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রির স্টল ছিল।



