জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ‘১২ পুলিশ সদস্যকে হত্যার’ অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন আমলে নেয়নি আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হোসেনের ছোট ভাই জালাল হোসেন মামলার আবেদন করেন। বিচারক রৌনক জাহান তাকি আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অনিক দেওয়ান। অন্য যাদের আসামি করার জন্য আবেদন করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন-সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, উমামা ফাতেমা, আরিফ সোহেল।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকারে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন আসিফ মাহমুদসহ আন্দোলনের তিন নেতা। পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন ৫ অগাস্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা যাত্রাবাড়ী থানার সামনে অন্তত ৭/৮টি গাড়ি ‘পুড়িয়ে মালামাল লুট’ করা হয়। ‘হামলা ও ভাঙচুর’ করে থানা নিজেদের ‘নিয়ন্ত্রণে’ নিয়ে নেন তারা।
এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ‘মারধর’ করে এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে ‘আগুন’ ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আসিফ মাহমুদ এবং তার সহকারীদের সহযোগিতায় ওসি আবুল হোসেনসহ ১২ জনকে ‘কুপিয়ে হত্যা’ করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নতুন সরকার শপথ গ্রহণের কয়েকদিন পর জুলাই আন্দোলনের সময়কার পুলিশ হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের দুজন মন্ত্রী দুই রকম তথ্য দেন।

দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্তের বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেটাই হবে এবং দ্রুত তদন্ত করা হবে।’ তবে তার দুই দিন পর গত ১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্র্বতী সরকার। সেই অধ্যাদেশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তার (সুরক্ষা অধ্যাদেশ) ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার একটি দফা।
সেই দফাতে আমরা সবাই একমত হয়েছি; যে সমস্ত রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছে, তারা সবাই একমত হয়েছে। সেটা ছিল জুলাই অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে।’ জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ সমস্ত অঙ্গীকার আমরা সই করেছি এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি। তার আলোকে যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব। আশা করি আমি পরিষ্কার করতে পেরেছি।’



