রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে একই ব্যক্তিকে তিন পদে নিয়োগ!

রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (রামেবি) নিয়োগ বিধিলঙ্ঘন করে একই ব্যক্তিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পদে পদে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তিকে ফের কলেজ পরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডা. আব্দুস সালামকে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৬ মাসের জন্য রেজিস্ট্রার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন উপাচার্য। তবে বিশ^বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগের জন্য প্রার্থীর নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ১৮ বছর অভিজ্ঞতার এবং পঞ্চম গ্রেডে ন্যূনতম ৮ বছর চাকরির অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে। নিয়োগের সময় ডা. আব্দুস সালামের পঞ্চম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে চাকরির অভিজ্ঞতা প্রায় ১ বছর ঘাটতি ছিল। অভিজ্ঞতার ঘাটতির বিষয়টি অবগত থাকার পরও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বিধিলঙ্ঘন করে তাকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে আব্দুস সালামকে রেজিস্ট্রার নিয়োগে বিধিলঙ্ঘনের বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে কলেঝ পরিদর্শক পদে নিয়োগ দিতে অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকা রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুস সালামকেই সদস্যসচিব করে উপাচার্য কলেজ পরিদর্শক পদে নিয়োগের বিধিমালায় (এমপিকিউ) সংশোধনী আনেন। ওই সংশোধিত এমপিকিউ গত বছরের ১৫ মার্চ রামেবির ১৭তম সিন্ডিকেটে অনুমোদন করা হয়। এর পর কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত হয় ওই বছরের ২২ মার্চ।

বিধি মোতাবেক সিন্ডিকেটের কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের ৭ কার্যদিবস পর অনুমোদিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কিন্তু উপাচার্য এক্ষেত্রেও বিধিলঙ্ঘন করেন এবং সংশোধিত এমপিকিউ বিধি মোতাবেক স্বাক্ষর ও কার্যকরের আগেই (১৭ মার্চ) ডা. আব্দুস সালামকে কলেজ পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য।

এর পর একই ব্যক্তিকে (কলেজ পরিদর্শক) তিন দিন পর ২০ মার্চ ফের বিধিলঙ্ঘন করে ‘বায়োটেকনোলজি ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ অনুষদের ডিন পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য। এই বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৪(৬) অনুযায়ী প্রত্যেক অনুষদের ডিন সংশ্লিষ্ট অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সব বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা নির্বাচিত হতে হবে। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী শিক্ষক ছাড়া কর্মকর্তাকে উপাচার্য ডিন নিয়োগ দিতে পারেন না। তৃতীয় বিধিলঙ্ঘন করে পছন্দের ওই ব্যক্তিকে ডিনের কোটায় সিন্ডিকেট সদস্য করেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ডা. আব্দুস সালাম অবশ্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই আমাকে কলেজ পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি সে কারণে কাজ করছি। কোনো অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই। যোগ্যতার ঘাটতি সত্ত্বেও রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং কর্মকর্তা হয়ে ডিনের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।’

এ বিষয়ে মতামতের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভি করেননি। ফলে তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments