জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন !

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা হলেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। যাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় সচল দেশের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে প্রতিনিয়ত হয়রানি, হেনস্তার শিকার।

জর্ডানে কর্মরত অনেক প্রবাসীর অভিযোগ আম্মানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে নিত্যদিন দুর্ব্যবহার, অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এজন্য রাষ্ট্রদূত এবং হেড অব চ্যান্সেরির স্বেচ্ছাচারী আচরণ অনেকাংশে দায়ী।

তাদের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রদূত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আনুগত্যের বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ স্বত্ত্বে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তারা আশা করছেন, প্রাবসীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে নতুন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। যদিও রাষ্ট্রদূত নুরে হেলাল সাইফুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

জর্ডানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে বৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশি মিশনগুলোকে প্রবাসীদের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাসের চিত্র এখনো বদলায়নি।

আম্মানে বসবাসরত এক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী জানান, মূলত নতুন পাসপোর্ট, ভিসা ও পাসপোর্ট নবায়ন এবং দেশে ফেরার ট্রাভেল পাসের জন্য তারা দূতাবাসে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন তারা।

তার অভিযোগ, দূতাবাসের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মনোভাব ও আচরণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সহায়ক না হয়ে বরং অসহযোগিতামূলক ও নিরুৎসাহজনক হয়ে উঠেছে।

কিছু প্রবাসীর অভিযোগ, দূতাবাসের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা- বিশেষ করে পাসপোর্ট নবায়ন, নিবন্ধন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযথা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নুরে হেলাল সাইফুর রহমান এবং দূতাবাসের চ্যান্সারি প্রধান শাহেদ বিন আজিজের আচরণ প্রায়ই প্রবাসীদের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ ও অসহযোগিতামূলক বলে তাদের মনে হয়েছে।
প্রবাসীরা বলছেন, একটি কূটনৈতিক মিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো- বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের সহযোগিতা করা, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা। কিন্তু আম্মনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক উল্টো।

এর প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ও চ্যান্সারি প্রধানের বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ এপ্রিল সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সূত্র জানায়, অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় দায়িত্ব পালনকালেও রাষ্ট্রদূত সাইফুর রহমান বিভিন্ন বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

তবে রাষ্ট্রদূত নুরে হেলাল সাইফুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। দূতাবাসে বিভিন্ন কনস্যুলার সেবায় চরম অব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নানা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে একটি কথায় বলব- এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

জানা যায়, বর্তমান রাষ্ট্রদূত অনেক ক্ষেত্রেই জর্ডানে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন না। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রধান্য দিচ্ছেন তিনি। জর্দানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ।

তারা বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সেই প্রবাসীদের যদি নিজ দেশের দূতাবাস থেকেই যথাযথ সহযোগিতা না মেলে, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তারা আশা করছেন, সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও প্রবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments