রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত সোহেল ফকিরের মরদেহ নিজ গ্রাম বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরখাককাটা এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে একই ঘটনায় তার বাবা মিরাজ ফকির এখনো বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন।
সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বামী-শ্বশুর হারানো বেদনায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেশমা। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হয়ার আগেই হারালেন আয়-রোজগার একমাত্র ব্যক্তি স্বামী সোহেল ফকির এবং শ্বশুর মিরাজ ফকিরকে।
সব হারিয়ে অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে নিজেই যেন যুদ্ধ করছেন নিজের সাথে। স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামী ও অনাগত সন্তান নিয়ে গড়বেন সুখের নীড়। গত বুধবার এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের ধাক্কায় তাদের সেই স্বপ্ন এখন শুধুই দুঃস্বপ্ন।
আঠারো বছরের বধূ রেশমার দু’চোখ বেয়ে অনবরত ঝরছে পড়ছে অশ্রুজল। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার আর্তনাদের জবাব নেই কারো কাছেই।
বুধবার সিএনজি যোগে সাভার থেকে আসেন কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে। উদ্দেশ্য সদরঘাট থেকে লঞ্চ উঠবেন। যাবেন গ্রামের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে। তবে গ্রামের বাড়িতে আর ফেরা হলো না তাদের। একজন ফিরলে লাশ হয়ে। বাইশ বছরের সোহেল ফকিরের ঠিকানা এখন মেহেন্দিগঞ্জে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে। তার বাবার মরদেহ মেলেনি এখনও। আর হাসপাতালে ঠাঁই হল তার স্ত্রী রেশমা আক্তারের ।
একমাত্র জীবিত ফেরা রেশমা স্বপ্ন দেখিছিলেন স্বামী-সন্তান নিয়ে গড়ে তুলবেন সুখের সংসার। তার সেই স্বপ্ন এখন শুধুই মরিচিকা। তবে কারো বিরুদ্ধেই তার নেই কোন অভিযোগ।
এদিকে, রেশমা আশংঙ্কা মুক্ত হলেও ভেঙ্গে গেছে হাত-পা, ছিঁড়ে গেছে কান। ব্যাথ্যায় কাতরালেও অন্তসত্ত্বা হওয়ায় দেয়া যাচ্ছেনা চেতনা নাশক ওষুধ। তার ওপর মাঝে মাঝেই হয়ে পড়ছে ট্রমাটাইজ।
এ ঘটনায় ঘাতক চালকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার কর হয়েছে জানিয়ে নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহত সোহেলের পিতার মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য গত বুধবার বিকেলে ট্রলারে চড়ে লঞ্চের পিছন থকে উঠতে গিয়ে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যান ছেলে সোহেল ফকির। বাবা মিরাজ ফকির এখনও নিখোঁজ।



