রংপুরে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সভা

রংপুর আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে ২৫শে মার্চ গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০শে মার্চ) দুপুরে রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ইউনিটের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ শাহজাহান আলী।

স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাঙালি জাতির জন্য গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই নিহিত আছে আমাদের ঠিকানা ও আত্মপরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পেত না।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পরেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তাস্তর করেনি। বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই হত্যাকান্ডে লক্ষাধিক মানুষ শহিদ হন। এরপর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, স্বাধীনতার চেতনা যেন ক্ষুন্ন না হয়, সেজন্য নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে উদ্ধৃদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অবিচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন হয়। এই স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি।

এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণাসহ সকল ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে এবং অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। এই অবিচার ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই গণহত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা। কিন্তু এই নির্মম হত্যাকান্ডই স্বাধীনতার দাবিকে আরো জোরালো করে তোলে এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রহমত আলম, কৃষিবিদ মোঃ আযহার আলী মন্ডল প্রমুখ। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments