বাংলাদেশে বড় বাজেটের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করতে সবাই ব্যস্ত

ডিজিএফআই ডিজির পাকিস্তান সফর, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক, চলছে ইটালি, তুরস্কের সাথে বৈঠক, বাংলাদেশের আর্মি চিফের আমেরিকা সফর—- সবাই ব্যস্ত বাংলাদেশে বড় বাজেটের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করতে।

গত ১ এপ্রিল রাতের এমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামবাদের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। সেখানে আইএসআই প্রধান (ডিজি) লেফট্যানেন্ট জেনারেল আসিফ মালিকের সাথে সরাসরি বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিম, সেনাপ্রধানের চিফ অব জেনারেল স্টাফ লে. জেনারেল সৈয়দ আমির রাজাসহ বেশ কয়েকজনের সাথে গোপন বৈঠক করেছেন।

গত ৮ মার্চ ভারত বিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকারী ফয়সালসহ ২ জনকে কলকাতায় গ্রেফতার করার সময় বাংলাদেশের ডিজিএফআইয়ের প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী কলকাতায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি কলকাতা ও দিল্লীতে বৈঠক করেছেন-এমন তথ্যও রয়েছে।

ডিজিএফআইয়ের প্রধানের কলকাতা-দিল্লী ভ্রমনের এক মাসের মাথায় জেনারেল কায়সার চৌধুরীর ইসলামাবাদ সফর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বৈত নীতির পরিচয় বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার পাকিস্তানের কাছ থেকে বড় বাজেটের অস্ত্র কিনতে চায় আবার ভারতকেও তিনি অখুশি করবে না। ভারতকে হাতে রেখেই তিনি তুরস্ক ও ইটালির কাছ থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি করছেন।

এর মধ্যে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রি. জেনারেল শামসুল ইসলামের সাথে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ বৈঠক করে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কেনার বিষয়টি মনে করিয়ে দেন।

এর মধ্যে তুরস্কও অস্ত্র ক্রয়ে পাইপলাইনে রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় তুরস্কের একজন কর্নেলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম মিরপুর সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিটের ১৮ সদস্যেও একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইটালির পাশাপাশি তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন প্রযুক্তি কেনার প্রসঙ্গ আলোচিত হয়।

এরই মধ্যে ১ এপ্রিল ডিজিএফআই প্রধানের ইসলামাবাদ সফরের পরদিন ২ এপ্রিল ভারতের সেনা প্রধান উপেন্দ্র ত্রিবেদীর সাথে দিল্লীর সাউথ ব্লকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।
এই ঘটনার পর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। শুক্রবার বিকাল ৫ টায় ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে দিল্লীর বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর জরুরী বৈঠক হয়।

একই দিন আবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমেরিকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।

৪ এপ্রিল শনিবার রাত ৯ টায় এমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরেন মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী।

রাজনীতির দ্বৈতনীতির একদিন হয়তো এই কায়সার রশিদ চৌধুরীর মত অফিসারদের কারণে অধিক ভারত প্রীতির দোহাই দিয়ে তারেক রহমানের সরকারের কবর রচনা করা হবে আইএসআইয়ের হাত ঘুরে। পরিকল্পনাটা ওখান থেকেই হবে। পরে ক্রেডিট দেয়া হবে ভারতের ঘাড়ে।

আসলেই কি আগামী ২/৩ বছর পর পাকিস্তান তাদের অস্ত্রের বাজার তৈরি করতে ভারতের কাধে বন্দুক রেখে একটা গুলি ছুঁড়বে। বাকিটা ৩ বছর পর নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। কারণ, এই প্লটে জামায়াত ইসলামীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম হবে না, বরং কি আওয়ামী লীগ ফিরবে ????

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments