বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। গতকাল সোমবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় এই বৈঠক শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ের বৈঠক দুপুর পর্যন্ত চলে। বৈঠকের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়।
এর আগে বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি সোমবার সকাল ৯ টায় নয়াদিল্লীতে পৌঁছে। বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধি দলটি নয়াদিল্লীতে বিএসএফ সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এবারের সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি, তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম হতে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা হতে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
৫৭ তম সম্মেলনে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও বিএসএফকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাহিনীর ডিজি প্রবীণ কুমার।
উল্লেখ্য, মহাপরিচালক পর্যায়ের এই আলোচনা ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার করে আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে এ বৈঠকের আয়োজন করে।



