রিয়েল স্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (রিহ্যাব) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নন, এমন অব্যবসায়ীরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগ ঘরানার দাবি করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন-তাদের মধ্য থেকে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর দাবি, রিহ্যাব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন সদস্য আবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সাথে সংযুক্ত না থাকার পরও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি করার সুযোগ পেয়েছেন। তাছাড়া
বিগত ১৭ বছর যারা রিহ্যাবকে পকেট কমিটি দিয়ে কুক্ষিগত করে রাখে এবং সংগঠনের কোন হিসাব প্রদান করেননি তারাও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রিহ্যাব নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। এগুলোর মধ্যে ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনও অভিযোগ উঠেছে যে সাবেক যুবলীগ নেতা ভোলার লালমোহন-চরফ্যাশন আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ২০১২ সাল থেকে রিহ্যাবকে কুক্ষিগত করা হয়েছে। কোন নির্বাচন না দিয়ে সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেটের (শেয়ার-এসএআরই) চেয়ারম্যান সামসুল আল আমিন কাজল, ওয়াহিদুজ্জামান, লিয়াকত আলী বিগত ১২ বছর ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল।
এসময় সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি। সদস্যদের টাকা ইচ্ছামত খরচ করছে। ওই সময় কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়া হতো অথবা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হতো । ২০২৪ শে ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের তারাই সংগঠনের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখে বর্তমানে তারা রিহ্যাবের ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্যানেল দিয়েছে। এদের প্যানেলে যুক্ত করেছে লক্ষ্মী বিল্ডার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কর্মকারকে।
ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সোনা চোরা চালানসহ বিভিন্ন ধরনের আবাসন ব্যবসা বহির্ভূত বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রার্থী বলেন, ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা কালো টাকা ছড়াচ্ছে। বড় বড় অনুষ্ঠানের নামে গিফট দিচ্ছে। এছাড়া ভোটের জন্য ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে আমোদ ফুর্তির ব্যাবস্থাও করছে ঐক্য প্যানেলের একাধিক প্রতিদ্ব›দ্বীরা। এই অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রদীপ কর্মকার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।



