চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। আগের নির্ধারিত ৭ জুনের পরিবর্তে ২ জুলাই থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গতকাল শনিবার সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় অংশ নেওয়া এক বোর্ড চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য কম সময় পাচ্ছে- এমন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও তাতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরীক্ষা পেছানো হলে সম্ভাব্য কী ধরনের সমস্যা তৈরি হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি জানান, আলোচনা ও সবার মতামত শোনার পর শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২ জুলাই থেকে শুরু করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী প‚র্ণাঙ্গ সময়স‚চি (রুটিন) তৈরি এবং শিগগির প্রকাশের ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ৭ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই অনুযায়ী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প‚র্ণাঙ্গ রুটিন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বোর্ডগুলো। তবে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আপত্তিসহ নানা কারণে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভার্চুয়ালি আয়োজিত এ সভায় অংশ নেওয়া বোর্ড কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন পর এবার প‚র্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হচ্ছে। আবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে দেরিতে। সেই হিসাবে দুই বছর প‚র্ণ হতে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চান শিক্ষার্থীরা।
এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ম রয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা এমন নিয়ম বাতিলের দাবি তোলেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় এখন থেকে সাইলেন্ট এক্সপেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিধিতে আনডিউ কিছু থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে এমন বিধান নেই।
ম‚লত বোর্ডের ১৯৬১ সালের নীতিমালায় এ ধারাটি যুক্ত রয়েছে। সাইলেন্ট এক্সপেল প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমানে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই। তাই এ নীতিমালা এখন প্রযোজ্য নয়। দ্রæত সময়ে নীতিমালা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দেবে, মানসিক চাপ তৈরি হবে এমন কোনো বিধিনিষেধ পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ২৯ অনুচ্ছেদ বাতিল: এদিকে গতকাল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬-এর ২৯ অনুচ্ছেদটি বাতিল করা হলো।
২৯ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, কোনো পরীক্ষার্থীকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে যদি আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবার আশঙ্কা থাকে অথবা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তা বিঘিœত হবার সম্ভাবনা থাকে, কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রেই নীরব বহিষ্কার করা যাবে।
তবে বিষয়-পত্রের পরীক্ষা শেষে প্রত্যবেক্ষকের সুস্পষ্ট বিবরণসহ গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। (উত্তরপত্রের ওএমআরের প্রথম অংশ আলাদা করা যাবে না)। উল্লেখিত অনুচ্ছেদটি এই বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে।
নকল বন্ধে রুটিন না দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার খবর ভুয়া: শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ‘পরীক্ষার আগে কোনো রুটিন (সময়স‚চি) প্রকাশ করা হবে না। পরীক্ষার্থী পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে জানতে পারবে আজ কোন বিষয়ের পরীক্ষা। নকল বন্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’- এমন একটি অসত্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ ও গ্রæপে এবং নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালে ছড়ানো এমন তথ্য সম্প‚র্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপতথ্য ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।
বিবরণীতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো শিক্ষা বোর্ডও এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; এ ধরনের কোনো আলোচনাও কোথাও হয়নি। অথচ একটি মহল আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে অসত্য ও ভিত্তিহীন এমন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গুজব।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়স‚চি অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।
কমে আসছে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সময়কাল: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার সময় পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকাঠেলর বৈঠকে। রুটিন প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিষয়টি চ‚ড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলেও জানায় ওই স‚ত্রটি।
তথ্যমতে, গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে শুরু হয়ে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলে; সেই হিসেবে বিগত বছরটিতে পাবলিক পরীক্ষাটি নিতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। এতে শিক্ষার্থী ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের লম্বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ম‚লত এই বিষয়টিকে কমিয়ে আনতেই চলতি বছরের পরীক্ষা ৫ সপ্তাহের মধ্যে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বোর্ড চেয়ারম্যানদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন।



